নিজস্ব প্রতিবেদক:
আদালতের অনুমতি ছাড়া দেশের বাইরে যেতে পারবেন না অবৈধ সম্পদ অর্জনের মামলায় তদন্তের মুখে থাকা বিডিনিউজ টোয়েন্টিফোর ডটকমের প্রধান সম্পাদক ও প্রকাশক তৌফিক ইমরোজ খালিদী। বিচারিক আদালতে হওয়া তাঁর জামিন বাতিল প্রশ্নে রুলে আগামী ১ ডিসেম্বর রায়ের তারিখ রেখে আজ বৃহস্পতিবার এ আদেশ দেন বিচারপতি মো. নজরুল ইসলাম তালুকদার ও বিচারপতি খিজির হায়াতের দ্বৈত বেঞ্চ।
২০২০ সালের ২০ অক্টোবর ঢাকা মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ আদালত খালিদীকে জামিন দেন। এ জামিন বাতিল চেয়ে উচ্চ আদালতে আবেদন করে দুর্নীতি দমন কমিশন –দুদক।
পরে ওই বছর ৮ ডিসেম্বর হাইকোর্ট রুল জারি করেন। বিচারিক আদালতের দেওয়া জামিন কেন বাতিল করা হবে না, জানতে চাওয়া হয় রুলে। ১০ দিনের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়। সে রুল শুনানির পরই রায়ের তারিখ রেখে সে পর্যন্ত তাঁর বিদেশ যাওয়ায় বিধিনিষেধ দেন আদালত।
আদালতে দুদকের পক্ষে রুল শুনানি করেন আইনজীবী মো. খুরশীদ আলম খান। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল এ কে এম আমিন উদ্দিন মানিক। তৌফিক ইমরোজ খালিদীর পক্ষে ছিলেন আইনজীবী মোহাম্মদ শাহরিয়া কবির বিপ্লব।
আইন কর্মকর্তা মানিক পরে সাংবাদিকদের বলেন, ‘তৌফিক ইমরোজ খালিদীর জামিন বাতিলের জন্য দুদকের করা রিভিশন আবেদনের শুনানি শেষ হয়েছে। রায় ১ ডিসেম্বর। এ সময়ের মধ্যে আদালতের অনুমতি ছাড়া খালিদী বিদেশ যেতে পারবে না। ’
এর আগে, ২০২০ সালের ৩০ জুলাই দুদকের উপ-পরিচালক গুলশান আনোয়ার প্রধান বাদী হয়ে মামলা করেন। মামলার এজাহারে বলা হয়েছে, তৌফিক ইমরোজ খালিদী এইচএসবিসি, ইস্টার্ন ব্যাংক লিমিটেড, সাউথ ইস্ট ব্যাংক লিমিটেড এবং মিউচ্যুয়াল ট্রাস্ট ব্যাংক লিমিটেডের বিভিন্ন হিসাবে ৪২ কোটি টাকা জমা রেখেছেন, যার বৈধ কোনো উৎস নেই।
ভুয়া কাগজপত্র সৃষ্টি করে অবৈধ প্রক্রিয়ায় তিনি ওই টাকা অর্জন করেছেন বলে প্রাথমিক তথ্য-উপাত্তে প্রমাণ পাওয়া গেছে। ওই অস্থাবর সম্পদ তিনি অবৈধ উপায়ে অর্জন করেছেন, যা তার জ্ঞাত আয়ের উৎসের সঙ্গে অসঙ্গতিপূর্ণ।
এ মামলায় ২০২০ সালের ২৬ আগস্ট হাইকোর্ট খালিদীকে আট সপ্তাহের আগাম জামিন দেন। এর বিরুদ্ধে দুদক আপিল বিভাগে আবেদন করেন। পরে ২১ সেপ্টেম্বর আপিল বিভাগ তা বহাল রাখেন। এরপর ওই বছরের ২০ অক্টোবর তিনি মহানগর জ্যেষ্ঠ বিশেষ জজ কে এম ইমরুল কায়েশের (বর্তমানে হাইকোর্টের অতিরিক্ত বিচারক) আদালতে আত্মসমর্পণ করে জামিন চান । শুনানি শেষে সেদিন আদালত ২৫ নভেম্বর পর্যন্ত অন্তর্বর্তীকালীন জামিন দেন। এরপর ২৫ নভেম্বর তাকে নিয়মিত জামিন দেওয়া হয়। পরে বিচারিক আদালতের জামিনের বিরুদ্ধে হাইকোর্টে রিভিশন আবেদন করে দুদক।
Leave a Reply